আল জামিয়াতুল কিবরিয়া, কেশেরা, হোসেনপুর, কিশোরগঞ্জ।

হযরত মৌলভি গোলাম কিবরিয়া খান রহ: (চান খা মৌলানা বা চান খা মৌলভি নামে সমধিক পরিচিত) ছিলেন একজন মহান আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব, আলেম, সমাজ সংস্কারক এবং ইসলামের প্রচারক। তার জীবন ও কর্ম সমাজে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। নিম্নে তার জীবনী উপস্থাপন করা হলো:

জন্ম ও বংশপরিচয়:
হযরত মৌলভি গোলাম কিবরিয়া খান রহ: তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মোমিনশাহি জেলার (বর্তমানে বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলা) কিশোরগঞ্জ মহকুমার কেশেরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ছিল সমেশ খান। তিনি একটি ধর্মপরায়ণ ও সম্মানিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, যা তাকে আধ্যাত্মিকতা ও জ্ঞানের পথে অনুপ্রাণিত করে।

শিক্ষা ও আধ্যাত্মিকতা:
হযরত মৌলভি গোলাম কিবরিয়া খান রহ: এর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় নিজ গ্রামে। পরবর্তীতে তিনি উচ্চতর ইসলামী শিক্ষার জন্য ভারতের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দ-এ ভর্তি হন। দেওবন্দ তখন ইসলামী শিক্ষা ও আধ্যাত্মিকতার একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছিল। তিনি দেওবন্দের প্রথম যুগের ছাত্র ছিলেন এবং সেখানে থেকে ইসলামী জ্ঞান, ফিকহ, হাদিস, তাফসির এবং আধ্যাত্মিকতা বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। দেওবন্দের শিক্ষা তাকে একজন পরিপূর্ণ আলেম ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে গড়ে তোলে।

ইসলাম প্রচার ও সমাজসেবা:
শিক্ষা সমাপ্তির পর তিনি নিজ গ্রাম ও আশেপাশের অঞ্চলে ইসলামের প্রচার ও প্রসারে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি মানুষের মাঝে ইসলামের সত্যিকার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য নিরলস পরিশ্রম করেন। তার বক্তব্য, শিক্ষা ও আচরণ মানুষকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করত। তিনি শুধু ধর্মীয় শিক্ষাই দেননি, বরং সমাজের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার প্রচেষ্টায় অনেক মানুষ ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় লাভ করে।

খানকা ও শিক্ষাকেন্দ্র:
হযরত কিবরিয়া খান রহ: এর বাড়ির সামনে অবস্থিত খানকা ছিল একটি আধ্যাত্মিক ও শিক্ষাকেন্দ্র। এই খানকা শুধু একটি স্থানই ছিল না, বরং এটি ছিল ইসলামী জ্ঞান, আধ্যাত্মিকতা ও আদর্শের একটি প্রাণকেন্দ্র। দূর-দূরান্ত থেকে ছাত্ররা তার কাছে দ্বীনি শিক্ষা লাভের জন্য আসতেন এবং এই খানকায় অবস্থান করে জ্ঞান অর্জন করতেন। তার খানকা ছিল একটি পবিত্র স্থান, যেখানে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ অব্যাহত ছিল।

খানকার কার্যক্রম:
১. শিক্ষাকেন্দ্র:
ছাত্ররা এখানে কুরআন, হাদিস, ফিকহ, তাফসির এবং অন্যান্য ইসলামী বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন করতেন।

২. আধ্যাত্মিক কেন্দ্র:
এখানে জিকির-আজকার, মুরাকাবা ও অন্যান্য আধ্যাত্মিক আমল করা হত।

৩. ছাত্রদের অবস্থান:
দূর-দূরান্ত থেকে আসা ছাত্র ও অনুসারীরা এই খানকায় অবস্থান করতেন এবং হযরত কিবরিয়া খান রহ: এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে থেকে জ্ঞান অর্জন করতেন।

৪. দ্বীনি শিক্ষার প্রচার:
তার ছাত্ররা শিক্ষা শেষে বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তেন এবং ইসলামের প্রচার ও প্রসারে নিয়োজিত হতেন।

ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলায় শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। ব্রিটিশ সরকার পাশ্চাত্য শিক্ষা পদ্ধতিকে প্রাধান্য দিতে চেয়েছিল এবং এই লক্ষ্যে অনেক মাদরাসাকে স্কুল বা কলেজে রূপান্তরিত করা হয়েছিল। হযরত কিবরিয়া খান রহ: এর খানকা বা মাদরাসাও এই পরিবর্তনের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারেনি। তার মৃত্যুর পর ১৯১৭ সালে তার খানকা বা মাদরাসাটিকে কেশেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এ রূপান্তরিত করা হয়।

শিষ্য ও অনুসারী:
হযরত মৌলভি গোলাম কিবরিয়া খান রহ: এর হাতে অনেক মানুষ ইসলামের দীক্ষা লাভ করেন। তার শিষ্যদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন:

  • মাওলানা রিয়াজ উদ্দিন রহ: (হযরত মাওলানা শামছুল হক পাঁচবাগী রহ: এর পিতা)।
  • আলহজ মাওলানা মোহাম্মদ ইসরাইল উরফে দিয়ারিশ মৌলবি রহ:(জন্ম ১৮৩৬- মৃত্যু ১৯৬২) (করিমগঞ্জ থানার বিশিষ্ট আলেম)। ১২৬ বছর বয়স হয়েছিল।
    তার শিষ্যরা পরবর্তীতে ইসলামের প্রচার ও শিক্ষা প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

জমিদারি অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম:
ব্রিটিশ আমলে হিন্দু জমিদাররা সাধারণ কৃষক ও মুসলমানদের ওপর জুলুম ও নির্যাতন চালাতো। তারা ধর্মীয় স্বাধীনতাকেও ক্ষুণ্ন করতো, যেমন ঈদুল আযহায় গরু কুরবানি দেওয়ায় হিন্দু জমিদার কর্তৃক নির্যাতন করা। হযরত কিবরিয়া খান রহ: এই জুলুমের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন এবং ঢাকার নওয়াব পরিবারের সহায়তায় এই অত্যাচার বন্ধ করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তার প্রভাবে এ অঞ্চলের সাধারন মুসলমান ধর্মিয় স্বাধীনাতা লাভ করে । উল্লেখ্য ততকালিন ব্রিটিশ উপনিবেশিক আমলে জন্সাধারনের সমস্ত সম্পত্তি হিন্দু জমিদারের অন্তর্ভুক্ত করে খাজনা-কর আদায় করা হত। কিন্তু অল্প সংখক প্রভাবশালী বুজুর্গ, আলেম, পীর মাশায়েখ এর জায়গা-জমি লাখেরাজ সম্পত্তি (করমুক্ত) ঘোষিত ছিল। সেই সময় কেশেরা গ্রাম বড় জমিদারের করদ এলাকা হলেও হযরত মৌলভি গোলাম কিবরিয়া খান রহঃ এর সমস্ত সম্পত্তি লাখেরাজ সম্পত্তি (করমুক্ত) ছিল।

ব্রিটিশ শাসনামলে মাদরাসার রূপান্তর:
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের পূর্বে এই উপমহাদেশে শিক্ষা ব্যবস্থা ছিল মক্তব, মাদরাসা কেন্দ্রিক। শাসন ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা ছিল মুসলমান সুলতান, বাদশা , মোগলদের হাতে।

বাংলায় ইসলামিক শিক্ষার ঐতিহ্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ ছিল, এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী ১৮শ শতাব্দীতে বাংলায় প্রায় ৮০,০০০ মাদরাসা বা মক্তব ছিল। এই মাদরাসাগুলো স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় দ্বারা পরিচালিত হতো এবং এগুলোতে কুরআন, হাদিস, ফিকহ (ইসলামিক আইন), আরবি ভাষা এবং অন্যান্য ইসলামিক বিষয় শিক্ষা দেওয়া হতো।

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে, বিশেষ করে ১৯শ শতাব্দীতে, ব্রিটিশ সরকার শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনে। তারা পাশ্চাত্য শিক্ষা পদ্ধতিকে প্রাধান্য দিতে শুরু করে এবং অনেক মাদরাসাকে স্কুল ও কলেজে রূপান্তর করে। এই প্রক্রিয়ায় ঐতিহ্যবাহী ইসলামিক শিক্ষা ব্যবস্থা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। ব্রিটিশরা তাদের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের জন্য আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে, যা স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে।

এখানে কিছু উল্লেখযোগ্য উদাহরণ দেওয়া হলো:

ফরিদপুর জিলা স্কুল (পূর্বে মাদরাসা)
ইতিহাস: ফরিদপুরে একটি প্রাচীন মাদরাসা ছিল, যা ব্রিটিশ সরকার স্কুলে রূপান্তর করে।

রূপান্তর: এটি এখন একটি আধুনিক স্কুল, যেখানে পাশ্চাত্য শিক্ষা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।

রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল (পূর্বে মাদরাসা)
ইতিহাস: রাজশাহী অঞ্চলে একটি প্রাচীন মাদরাসা ছিল, যা ব্রিটিশ শাসনামলে স্কুলে রূপান্তরিত হয়।

রূপান্তর: এটি এখন একটি বিখ্যাত স্কুল, যেখানে আধুনিক শিক্ষা দেওয়া হয়।

পাটনা মাদরাসা (ভারত)
প্রতিষ্ঠা: ১৭৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত।

রূপান্তর: এটি পরবর্তীতে পাটনা কলেজে রূপান্তরিত হয়। এটি বাংলার সীমানার কাছাকাছি অবস্থিত ছিল এবং বাংলার মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

কেশেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (পূর্বে মাদরাসা)
ইতিহাস: হযরত মৌলভি গোলাম কিবরিয়া খান রহ. প্রতিষ্ঠিত মাদরাসা বা খানকা।

রূপান্তর: ১৯১৭ সালে এটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এ রূপান্তরিত হয়।

হুগলি মাদরাসা (পশ্চিমবঙ্গ)
ইতিহাস: হুগলিতে একটি প্রাচীন মাদরাসা ছিল, যা ব্রিটিশ শাসনামলে স্কুলে রূপান্তরিত হয়।

রূপান্তর: এটি এখন একটি আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

মুর্শিদাবাদ মাদরাসা
ইতিহাস: মুর্শিদাবাদে একটি প্রাচীন মাদরাসা ছিল, যা ব্রিটিশ শাসনামলে স্কুলে রূপান্তরিত হয়।

রূপান্তর: এটি এখন একটি আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

বর্ধমান মাদরাসা
ইতিহাস: বর্ধমানে একটি প্রাচীন মাদরাসা ছিল, যা ব্রিটিশ শাসনামলে স্কুলে রূপান্তরিত হয়।

রূপান্তর: এটি এখন একটি আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় মক্তব ও মাদরাসা
বাংলার গ্রামীণ অঞ্চলে অসংখ্য ছোট মক্তব ও মাদরাসা ছিল, যেগুলো ব্রিটিশ শাসনামলে স্কুলে রূপান্তরিত হয় বা বিলুপ্ত হয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, অনেক গ্রামে মক্তবগুলোকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিণত করা হয়।

হযরত মৌলভি গোলাম কিবরিয়া খান রহ: এর ব্যক্তিত্ব, জ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতা এতটাই মহান ছিল যে, তিনি শুধু সাধারণ মানুষের কাছেই নয়, বরং দেশ-বিদেশের জ্ঞানী, গুণী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের কাছেও সমাদৃত ছিলেন। তার গুণে আকৃষ্ট হয়ে অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি তার সান্নিধ্যে আসতেন এবং তার সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। এর মধ্যে বাংলার প্রখ্যাত ভাষাবিদ, সাহিত্যিক ও গবেষক ডঃ মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ (১০ জুলাই ১৮৮৫ – ১৩ জুলাই ১৯৬৯)-এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি হযরত মৌলভি গোলাম কিবরিয়া খান রহ: এর গুণগ্রাহী ছিলেন এবং তার সাথে গভীর সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন।

ডঃ মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ ও হযরত কিবরিয়া খান রহ: এর সম্পর্ক:

ডঃ মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ ছিলেন বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির একজন অগ্রগামী ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলা ভাষার প্রথম অভিধান প্রণয়নসহ অসংখ্য গবেষণামূলক কাজের জন্য বিখ্যাত। তার মতো একজন মহান ব্যক্তিত্ব হযরত মৌলভি গোলাম কিবরিয়া খান রহ: এর গুণে আকৃষ্ট হয়ে তার সান্নিধ্যে এসেছিলেন।

১. কেশেরা মৌলভি বাড়িতে আগমন:
ডঃ মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ হযরত কিবরিয়া খান রহ: এর বাড়ি কেশেরা মৌলভি বাড়িতে এসেছিলেন। এই সফরটি তার জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল। তিনি হযরত কিবরিয়া খান রহ: এর আধ্যাত্মিকতা, জ্ঞান ও ব্যক্তিত্বের গভীর প্রভাব অনুভব করেছিলেন।

২. পরিবারিক সম্পর্ক:
ডঃ মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ হযরত কিবরিয়া খান রহ: এর সাথে শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কই রাখতেন না, বরং তিনি তার দুই ভাতিজিকে হযরত কিবরিয়া খান রহ: এর দুই সাহেবজাদার (পুত্র) কাছে বিবাহ দেন। এই বিবাহের মাধ্যমে দুটি পরিবারের মধ্যে একটি গভীর ও আত্মীয়তামূলক সম্পর্ক গড়ে উঠে।

হযরত কিবরিয়া খান রহ: এর প্রভাব:
হযরত মৌলভি গোলাম কিবরিয়া খান রহ: এর ব্যক্তিত্ব ও আধ্যাত্মিকতা এতটাই প্রভাবশালী ছিল যে, তিনি শুধু সাধারণ মানুষই নয়, বরং ডঃ মুহাম্মদ শহিদুল্লাহর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও আকৃষ্ট করেছিলেন। তার গুণগ্রাহীদের মধ্যে শুধু ধর্মীয় ব্যক্তিরাই ছিলেন না, বরং সাহিত্যিক, ভাষাবিদ ও গবেষকরাও ছিলেন। এটি তার ব্যক্তিত্বের মহত্ত্ব ও প্রভাবের প্রমাণ বহন করে।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার:
হযরত মৌলভি গোলাম কিবরিয়া খান রহ: আনুমানিক ১৯১০ সালে ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুর মাধ্যমে সমাজ একজন মহান আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব ও আলেমকে হারায়। তবে তার শিক্ষা, আদর্শ ও অবদান আজও মানুষের মাঝে জীবিত রয়েছে। তার মৃত্যুর শতাব্দিকাল পরেও তার স্মৃতি ও কর্ম লোকমুখে উচ্চারিত হয়, যা তার মহান ব্যক্তিত্বের প্রমাণ বহন করে।

উপসংহার:
হযরত মৌলভি গোলাম কিবরিয়া খান রহ: এর জীবনী শুধু ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক দিক থেকেই নয়, বরং সমাজ সংস্কার ও ন্যায়বিচারের দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত সমাজ সংস্কারক, যিনি নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছিলেন। তার আদর্শ ও কর্ম আমাদেরকে ইসলামের সঠিক পথে চলার প্রেরণা যোগায়। আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন এবং আমাদেরকে তার পদাঙ্ক অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

জামিয়া কিবরিয়া রহ: প্রতিষ্ঠা:
হযরত মৌলভি গোলাম কিবরিয়া খান রহ: এর আদর্শ ও শিক্ষাকে ধারণ করে আজ তার নামে একটি নতুন ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে, যা জামিয়া কিবরিয়া রহ: নামে পরিচিত। এই প্রতিষ্ঠানটি তার জীবন ও কর্মের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে এবং ইসলামী জ্ঞান, আধ্যাত্মিকতা ও সমাজসেবার মাধ্যমে তার আদর্শকে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

জামিয়া কিবরিয়া রহ: এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
১. ইসলামী শিক্ষার প্রচার:
জামিয়া কিবরিয়া রহ: এর মূল লক্ষ্য হলো ইসলামী জ্ঞান, ফিকহ, হাদিস, তাফসির এবং অন্যান্য ইসলামী বিষয়ে শিক্ষা প্রদান করা।

২. আধ্যাত্মিকতা:
প্রতিষ্ঠানটি আধ্যাত্মিকতার চর্চা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের পথে পরিচালিত করে।

৩. সমাজসেবা:
হযরত কিবরিয়া খান রহ: এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জামিয়া কিবরিয়া রহ: সমাজসেবা ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে।

৪. হযরত কিবরিয়া খান রহ: এর উত্তরাধিকার:
এই প্রতিষ্ঠানটি হযরত কিবরিয়া খান রহ: এর জীবন ও কর্মকে স্মরণ করে এবং তার আদর্শকে বাস্তবায়ন করার জন্য কাজ করে।